চতুষ্কোণ

চতুষ্কোণ eBook ï Paperback

চতুষ্কোণ ➶ [Read] ➲ চতুষ্কোণ By Manik Bandopadhyay ➾ – Polishdarling.co.uk Amazing Ebook, চতুষ্কোণ By Manik Bandopadhyay This is very good and becomes the main topic to read, the readers are very takjup and always take inspiration from the contents of the boo Amazing Ebook, চতুষ্কোণ By Manik Bandopadhyay This is very good and becomes the main topic to read, the readers are very takjup and always take inspiration from the contents of the book চতুষ্কোণ, essay by Manik Bandopadhyay Is now on our website and you can download it by register what are you waiting for? Please read and make a refission for you.


10 thoughts on “চতুষ্কোণ

  1. Aishu Rehman Aishu Rehman says:

    এমন একটা বই, যেটা পড়ার পর ভালো বা মন্দ লাগার অনুভূতিটাও ঠিক বোঝানো যায় না। শুধু মনে হয়, কোথাও যেন একটা তারে টোকা পড়েছে, আর কানের কাছে সেটা অবিরাম ঝংকার তুলে যাচ্ছে, যাচ্ছে তো যাচ্ছেই...

    চতুষ্কোণ মানে রাজকুমার; রাজকুমারের আখ্যান, আলেখ্য। শশীর মত আরেক নিঃসঙ্গতার চিরায়ত প্রতিক। যার কোন অতীত নেই, কোন পারিবারিক পরিচয় নেই, কোন কর্মজীবন নেই (রাজকুমার বেকার, তার ছুটিও নেই), ইতিহাস নেই। রাজকুমার কেবলই 'বর্তমান', আর এই বর্তমান তাকে দাড় করিয়ে দেয় 'চিরায়ত' এর স্থানে... হেমিংওয়ে হিরো এর মত রাজকুমারকে বলা যায় মানিকিয় হিরো


  2. Amlan Mostakim Amlan Mostakim says:

    মানুষ নাকি চিবুকের কাছাকাছি ভীষণ অচেনা ও একা। ধরা যাক, রাজকুমার ওরফে রাজু সেরকম একজন। একা বললে ভুল হবে, সে আসলে অনেকটাই আত্মমগ্ন। রিণি, সরসী, মাধবী ও কালী- এই চার নারী তাঁকে এমন দুর্বার আকর্ষণ করে, তেমনি চুম্বকের বিপরীত মেরুর মতোই মাঝে মাঝে ঠেলে দেয় বিপ্রতীপ কোণে। রাজকুমার কখনও তাঁদের কারও কাছে গিয়ে একটু আশ্রয় খোঁজে, একটু নির্ভরতা চায়। আবার কখনও সে নিজের সত্বায় বুঁদ হয়ে থাকে, এক দুর্বোধ্য গোলকধাঁধায় নিজে নিজে পাক খেতে থাকে। সে বোধ হয় নিজেই বুঝতে পারে না, সে নিজে কী চায়।

    রিণির কথাই ধরি। সংগীতপটীয়সী পাশ্চাত্যশিক্ষায় শিক্ষিত একজন নারীর কাছ থেকে রাজকুমার কী চায় ? রিণির চুম্বন আহবান যেমন সে হেলায় ফিরিয়ে দেয়, আবার বিকারগ্রস্ত সেই রিণির কাছেই সে নিজেকে সমর্পণ করে। আবার সেই রিণির কাছেই সে কোন বিচিত্র কারণে খাপছাড়া (আসলে অবিশ্বাস্যই বলা উচিত) এক আবদার করে বসে। সেটা এমনই অদ্ভুত, রিণি সে ধাক্কায় অনেকটাই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সুস্থ রিণি যেমন রাজকুমারকে দূরে ঠেলে দিত, অসুস্থ রিণি তাঁকে প্রাণপণে কাছে পেতে চায়। তার মানে কি রিণির অবচেতন মনের ইচ্ছাটাই এটা ছিল ?

    সরসীর মন সেই তুলনায় অনেকটাই ঘোলা জলের মতো। সে আধুনিক, সংস্কারবিবর্জিতা। রাজকুমারের অপ্রীতিকর ও অসঙ্গত আবদারও সে রক্ষা করে। সেখানে সে নারীসুলভ ব্রীড়াকে ঝেড়ে ফেলতে একটুও কুন্ঠা করে না। কিন্তু তার পরেও সে নিজের নৈর্ব্যক্তিকতা বিসর্জন দিতে পারে? রিণির পরিণতির জন্য রাজকুমার দায়ী নয়- বার বার সেটা মনে করিয়ে দিয়ে সে আসলে কী প্রমাণ করতে চায় ?

    মাধবী বরং অনেকটাই স্বচ্ছ জলের মতো। তার সংকট একটাই, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার ব্যবধানটা সে প্রায়শই এক করে বসে। রাজকুমারকে সে বসিয়েছে শ্রদ্ধার আসনে। কিন্তু উল্টো দিক থেকে সে শ্রদ্ধার বিনিময়ে নিজেকে বিকিয়েও দিতে চায়। তাঁদের সম্পর্কটা ছাত্রী-শিক্ষকের, কিন্তু আসলে সেটা মহাদেবের কাছে দেবীর অকুন্ঠ সমর্পণের মতো। রাজকুমার শ্রদ্ধার আসনটা জিইয়ে রাখিতে চাইলেও মাধবী সেই আসনে ভালোবাসার পুষ্পমালা বিছিয়ে দিতে চায়।

    কালীর ব্যাপারটা আবার অন্যরকম। সে নেহায়তই উন্মার্গিক, আপাতদৃষ্টিতে অপরিপক্ব। কিন্তু সেই বোধ হয় রাজকুমারকে সবচেয়ে ভালোভাবে পড়তে পারে। রাজকুমারের প্রত্যাখানে সে আহত হয়, কিন্তু নিজেকে বাকিদের মতো বিকিয়ে দিতে যায় না।

    রাজকুমার চরিত্রটা সম্ভবত মানিকের সবচেয়ে জটিলগুলোর একটি। শুধু মানিক কেন, বাংলাসাহিত্যেই আর কোনো লেখক এরকম প্রহেলিকাময় কোনো চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন কি না সেই প্রশ্ন রেখে যাওয়া যায়। সে একই সাথে যৌনতাড়িত, আবার কখনও কখনও একেবারেই শরীরবিমুখ। সে সব সময় যুক্তির কষ্টিপাথরে সব কিছু যাচাই করে নিতে চায়, আবার রিণির পরিণতির জন্য খানিকটা অযৌক্তিকভাবেই নিজেকে কাঠগড়ায় তুলতে দ্বিধা করে না। তার মানে কি তাঁর যুক্তিবাদী মনের আড়ালে একটা আবেগী স্বত্বা আছে ? কিন্তু সেটাই বা জোর দিয়ে কীভাবে বলা যায়?

    নাহ, চতুষ্কোণ আসলে কাকচক্ষু জলের গভীর দীঘির মতো, যার তলের কোনো থই পাওয়া যায় না। এমন একটা বই, যেটা পড়ার পর ভালো বা মন্দ লাগার অনুভূতিটাও ঠিক বোঝানো যায় না। শুধু মনে হয়, কোথাও যেন একটা তারে টোকা পড়েছে, আর কানের কাছে সেটা অবিরাম ঝংকার তুলে যাচ্ছে, যাচ্ছে তো যাচ্ছেই...


  3. Israt Zaman Disha Israt Zaman Disha says:

    আমার ছোট মাথায় ঠিক ধরতেসে না। কেউ কোনদিন বুঝায় দিলে বা নিজের বুদ্ধি একটু খুললে তখন হয়ত বলতে পারবো কেমন লাগলো।


  4. Farzana Raisa Farzana Raisa says:

    ম্যালা বই পড়া হইসে ঠিক, কিন্তু বোদ্ধা বা জ্ঞানী বোধহয় আর এই জীবনে হওয়া হলো না। দুঃখিত মানিক বাবু, আমি নিতান্তই মুখ্যসুখ্য মানুষ এতো জটিল প্যাঁচপুচ, মানুষের বিচিত্র সাইকোলজি আর কার্যকলাপ বুঝা আমার কম্মো না।
    দিন শেষে নিজের জন্য এক রাশ হতাশ আর করুণা :/

    বি.দ্র. রেটিং দিব কি? বুঝি নাই তো কিছু। 💔


  5. Arup Arup says:

    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যেকোন লেখাতেই 'মন' একটা অলিখিত চালিকাশক্তি।মানুষের মন যে পথে চলে, সে যে সবসময়ই পায়ে চলা পথ নয় সেটাই যেন লেখক নিবিড়ভাবে উন্মোচন করেন। একজন যুবক যে হয়তো শিক্ষিত এবং তার পারিপার্শ্বিক পৃথিবীতে একা,তার সঙ্গচেতনা যেভাবে আবর্তিত হয় কিছু নারীকে ঘিরে তারই আলেখ্য চতুষ্কোণ। কিন্তু সেও কোন সহজ অনুভূতি নয়,অন্তত একটি মুহূর্তকে বর্ণনা করতে লেখক কথার পর কথায় যেভাবে খুলে যান মনের অজস্র কপাট,তা আধুনিক মানুষের অন্তর্যাতনাকেই আরো তীব্র করে তোলে।

    রাজকুমার শিক্ষিত তরুণ,তার জ্ঞানের উদ্ভাসে এবং পরিচয়ের সুবাদে কিছু নারীর(মেয়ে বলাই সমীচীন?)সাথে তার জীবন সম্পর্কিত।কেউ হয়ত শিক্ষিতা কেউ নয়,এরকম চারজনকে দিয়েই মানিক দৃশ্যামান করেন রাজকুমারকে। যৌনতা বলতে একালের লেখকেরা যেভাবে লেখেন অন্তত খুব স্থূলভাবে,মানিক তার ব্যবহার করেননি,তার যৌনতাও মানুষের অন্তর্লোক খুঁড়ে দেখবার প্রয়াস,যেভাবে রাজকুমার বুঝতে চায় মেয়েমানুষের গড়নের সাথে তার স্বভাবের কী জটিল রহস্য। এবং সেই কথা যখন একজন নারীকে জানায়,জোটে তিরস্কার। অথচ সে লোভী নয়,শুধুই একটি শরীরের বাসনা সে বোধ করে না। কিন্তু সেই বোধও ধাক্কা খেয়ে যায়,যখন হোটেলের দরজায় দাঁড়ায়,যেন ভেতরের জৈবিক প্রবৃত্তি তার অনাসক্ত মনের আবরণ কে ঘুচিয়ে দিতে চায়। এরপরও এই উপন্যাস যৌনতাসর্বস্ব নয়, যেন স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকেই কেন মানুষ অর্গলে আবদ্ধ রাখে তাই বোঝবার প্রয়াস,জীবনের সন্ধান। তবে সে প্রচেষ্টাও রাজকুমারকে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত করা থেকে এড়াতে পারে না। আধুনিক মানুষের মত সেও বোধ করে নিজেকে খুঁজে দেখার এ যাত্রা নিঃসঙ্গ,অনিঃশেষ। এ যেন সেই,
    'সকল লোকের মাঝে ব’সে
    আমার নিজের মুদ্রাদোষে
    আমি একা হতেছি আলাদা'

    যে তুমুল বিপন্নতা কে এড়ানো যায় না কিছুতেই।


  6. Swajon Swajon says:

    শব্দের মানে তারাই ঠিক করে, যে বলে আর যে শোনে। কাজ ও উদ্দেশ্যের বেলাতেও তাই! কি ব্যাপক মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা!

    রাস্তায় নেমে গেলেই দেখবে সব ঠিক হয়ে গেছ।

    রাগ নাই, অভিমান নাই। একটি মানুষের উপরেও নয়। জড়বস্তুকেও মানুষ কখনো কখনো হিংসা করে, হোঁচট লাগিলে অন্ধ ক্রোধে ইটের উপর পদাঘাত করে, কারাগারের লোহার শিক ভাঙ্গিয়া ফেলিতে চায়। কিন্তু মানুষ নিষ্ক্রিয় নির্জীব পুতুল হইলে একটি পুতুলের মুখ তার পছন্দমত নয় বলিয়া যতটুকু বিরক্তি বোধ করা উচিত, তাও সে বোধ করে না। মানুষের মনের অন্ধকার ও দেহের শ্রীহীনতার অপরাধ সে ক্ষমা করিয়াছে। মানুষ যে কৃপণ, তাতে তার কিছুই আসিয়া যায় না, কারণ, মানুষের কাছে সে কিছু চায় না।
    এই নির্বিকার ঔদার্য যেন জীবনের সেরা সম্পদ, কুড়াইয়া পাইয়াছে। দূর হইতে দিনের পর দিন শুধু চাহিয়া দেখিতে দেখিতে হঠাৎ একদিন ধনীর দুলালের খেলনাটি বস্তিবাসী শিশুর হাতে আসিলে সে যেমন আনন্দে পাগল হইয়া ভাবে, জীবনে তার পাওয়ার আর কিছুই বাকি নাই, আর্ষ শান্তি আহরণের সৌভাগ্যে বিপরীত আনন্দের উন্মাদনায় রাজকুমারেরও তেমনি মনে হইতে থাকে, এবার সে তৃপ্তি পাইয়াছে, সম্মুখে তার পরিতৃপ্ত জীবন।


  7. Fahmida Altaf Fahmida Altaf says:

    অন্য ধাঁচের উপন্যাস। মনের যতসব দোলাচল, যতসব ধাঁধা- ক্যানভাসে ছবির মত উঠে এসেছে। মনে হবে ভালো লাগছে না, কিন্তু একটু পরে পরেই মনে হবে একবার অসাধারণ, আবার একটু পরে মনে হবে ভালো লাগছে না। কারণ আমার মতে এটাই, সকলের সব ভালোমন্দ চিন্তা জানা গেলে তাকে আর ঠিক পারফেক্ট ভালো মনে হয় না।

    সরসী মেয়েটি বেশ। বোল্ড ক্যারেকটার।

    শেষপর্যন্ত এসে সমাপ্তিটি অসম্পূর্ণ। পাঠকের আরো জানার অপূর্ণতা রয়ে যায় কিন্তু নিজের মত করে ভেবে নেয়ার খোরাক থাকে না।


  8. Shahriar Kabir Shahriar Kabir says:

    কারো প্রতি দাবি করে নাই বলেই কি ভালবাসার ইচ্ছা রাজকুমারের জন্য পরাক্রমে বেঁচেছিল?
    চার-পাঁচ নারীর সকলেই জানে তারা রাজকুমারের নৈকট্য কামনা করে। রাজকুমারেরও কিছুটি অবিদিত নয়। নারীর প্রতি কামনা রাজকুমারের দর্শনের মাঝ দিয়ে ধরা দেয়! সবার জন্য প্রেম অনুভব করা কার জন্যই পাগল না হওয়ার মত দশা।
    যার দশেক প্রেমিকা থাকে তার জন্যই বুঝিবা দশের বাইরের মেয়েটাও দেহ মন দেবার বাসনা লালন করে?
    শ্যামলের প্রেমের বৃক্ষ এক মালীর জন্য জন্মে, এক মালীর অভাবেই শ্যামলকে অস্ফূট রেখে দিল।
    যা প্রেম তা ধ্বংসে বিরাজ। যা বিরাজমান প্রেম তার পরিণতি অপরিণয়ে।
    যার লাগি যার পোড়ে তার কাছে কেউ বাধা পড়ে থাকল না!
    যার কাছে যে বাধা পড়ে থাকতে চায়, তার কাছে সেই পোড়ানিটুকু তো নাই!
    প্রেম কি একের পর এক অসমাপ্ত সম্পর্ক জন্ম দিতে থাকে যার সমাপ্তি শুধু বাহ্যিক?

    প্রধান চরিত্র রাজকুমার ওরফে রাজু-ময় উপন্যাস। উপন্যাসের হিরো, উপন্যাসে ঘটা পরিস্থিতির ভিলেন হয়েও হিরো! সমাজে যে বড় তার দোষটি বড় ছোট, বা কখনো দোষও নয়, দর্শনীয় দর্শন।


  9. Naima Ferdous Naima Ferdous says:

    মানিক বাবু বরাবরই জানেন কেমন করে পাঠককে আচ্ছন্ন করে রাখতে হয়। একদমই ভিন্ন ধাঁচের কাহিনিতব্য চতুষ্কোণ।

    শব্দের মানে তারাই ঠিক করে যে বলে আর যে শোনে।রাজকুমার চরিত্রটির এমন মনস্তাত্ত্বিক পরিণতি সাধারণ ভাবে ন্যাকামো বা ভারি অদ্ভুত ঠেকতে পারে। ভিন্নভাবে নারী প্রকৃতির বিশ্লেষণে পৌছুতে চেয়েছিলেন রাজকুমার। খুব বেশি ভালো লেগেছে কিনা বুঝতে পারছি না। তবে মন্দ লাগেনি অবশ্যই বলা যায়। কোথাও যেন অতি সুক্ষ্ম ভাবে সুক্ষ্ম কোনো চিন্তা বিঁধে আছে।


  10. Rubel Rana Rubel Rana says:

    মানিকের সাথে আমার ব্যক্তিগত দুইটা সমস্যা আছে, একটা ''সমস্যা'' পুরোটাই সমস্যা, আরেকটি সমস্যা ভালবাসার। ভালবাসার বলতে, খুব ছোটবেলায় কেউ আমার হাতে মানিক ধরিয়ে দিয়েছিলো। সেই থেকে মানিকই আমার কাছে এই ধরনীর বুকে হেটে বেড়ানো সেরা লেখক। এখনো আমি ধরেই নিই, অন্য কোন ভালো লেখক তার চেয়ে হয়তো ছোট নয় কিন্তু সে বড়। কথাটা কেমন যেনো একপ্রকার মিনিংলেস টটোলজির মতো শোনালেও, এই'ই সত্য। আর সমস্যাটা হলো, আমি ছোটোবেলায় তার লেখার গভীরতা বুঝতে পারিনি। মন নিয়ে তার যে খেলা, মনের যে ব্যবচ্ছেদ তার মর্ম আর স্কুল পড়ুয়া বালক কী বুঝবে! এই যে পুতুল নাচের ইতিকথায় সারা বই জুড়ে প্রেম ছিলো, অথচ সেই প্রেম কমিক পড়ার বয়সে চোখে পড়েনি আমার। কারন বইয়ের পাতায় পাতায় প্রেম আর জীবনেরা হৈ-হোল্লোড় করে গোল্লাছোট খেলেনি, তারা নিঃশব্দে দাবা খেলেছে। সেই প্রেম আর জীবন আমাকে কাপিয়ে দিয়ে গেলো এবার দ্বিতীয়বার বইটি পড়ার পর। একারনেই আবার মানিক রিভিশন চলছে। কোনকিছু না বুঝেই যে মানিকের লেখার প্রেমে পড়েছিলাম, বোধশক্তি হওয়ার পর সেই প্রেমকে অমূল্যই মনে হচ্ছে। চতুষ্কোন মানিকের সেরা কাজ নয় কিন্তু মানিকের কাজ, সে আমার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ভক্তি পাবেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


10 thoughts on “চতুষ্কোণ

  1. Aishu Rehman Aishu Rehman says:

    এমন একটা বই, যেটা পড়ার পর ভালো বা মন্দ লাগার অনুভূতিটাও ঠিক বোঝানো যায় না। শুধু মনে হয়, কোথাও যেন একটা তারে টোকা পড়েছে, আর কানের কাছে সেটা অবিরাম ঝংকার তুলে যাচ্ছে, যাচ্ছে তো যাচ্ছেই...

    চতুষ্কোণ মানে রাজকুমার; রাজকুমারের আখ্যান, আলেখ্য। শশীর মত আরেক নিঃসঙ্গতার চিরায়ত প্রতিক। যার কোন অতীত নেই, কোন পারিবারিক পরিচয় নেই, কোন কর্মজীবন নেই (রাজকুমার বেকার, তার ছুটিও নেই), ইতিহাস নেই। রাজকুমার কেবলই 'বর্তমান', আর এই বর্তমান তাকে দাড় করিয়ে দেয় 'চিরায়ত' এর স্থানে... হেমিংওয়ে হিরো এর মত রাজকুমারকে বলা যায় মানিকিয় হিরো


  2. Amlan Mostakim Amlan Mostakim says:

    মানুষ নাকি চিবুকের কাছাকাছি ভীষণ অচেনা ও একা। ধরা যাক, রাজকুমার ওরফে রাজু সেরকম একজন। একা বললে ভুল হবে, সে আসলে অনেকটাই আত্মমগ্ন। রিণি, সরসী, মাধবী ও কালী- এই চার নারী তাঁকে এমন দুর্বার আকর্ষণ করে, তেমনি চুম্বকের বিপরীত মেরুর মতোই মাঝে মাঝে ঠেলে দেয় বিপ্রতীপ কোণে। রাজকুমার কখনও তাঁদের কারও কাছে গিয়ে একটু আশ্রয় খোঁজে, একটু নির্ভরতা চায়। আবার কখনও সে নিজের সত্বায় বুঁদ হয়ে থাকে, এক দুর্বোধ্য গোলকধাঁধায় নিজে নিজে পাক খেতে থাকে। সে বোধ হয় নিজেই বুঝতে পারে না, সে নিজে কী চায়।

    রিণির কথাই ধরি। সংগীতপটীয়সী পাশ্চাত্যশিক্ষায় শিক্ষিত একজন নারীর কাছ থেকে রাজকুমার কী চায় ? রিণির চুম্বন আহবান যেমন সে হেলায় ফিরিয়ে দেয়, আবার বিকারগ্রস্ত সেই রিণির কাছেই সে নিজেকে সমর্পণ করে। আবার সেই রিণির কাছেই সে কোন বিচিত্র কারণে খাপছাড়া (আসলে অবিশ্বাস্যই বলা উচিত) এক আবদার করে বসে। সেটা এমনই অদ্ভুত, রিণি সে ধাক্কায় অনেকটাই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সুস্থ রিণি যেমন রাজকুমারকে দূরে ঠেলে দিত, অসুস্থ রিণি তাঁকে প্রাণপণে কাছে পেতে চায়। তার মানে কি রিণির অবচেতন মনের ইচ্ছাটাই এটা ছিল ?

    সরসীর মন সেই তুলনায় অনেকটাই ঘোলা জলের মতো। সে আধুনিক, সংস্কারবিবর্জিতা। রাজকুমারের অপ্রীতিকর ও অসঙ্গত আবদারও সে রক্ষা করে। সেখানে সে নারীসুলভ ব্রীড়াকে ঝেড়ে ফেলতে একটুও কুন্ঠা করে না। কিন্তু তার পরেও সে নিজের নৈর্ব্যক্তিকতা বিসর্জন দিতে পারে? রিণির পরিণতির জন্য রাজকুমার দায়ী নয়- বার বার সেটা মনে করিয়ে দিয়ে সে আসলে কী প্রমাণ করতে চায় ?

    মাধবী বরং অনেকটাই স্বচ্ছ জলের মতো। তার সংকট একটাই, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার ব্যবধানটা সে প্রায়শই এক করে বসে। রাজকুমারকে সে বসিয়েছে শ্রদ্ধার আসনে। কিন্তু উল্টো দিক থেকে সে শ্রদ্ধার বিনিময়ে নিজেকে বিকিয়েও দিতে চায়। তাঁদের সম্পর্কটা ছাত্রী-শিক্ষকের, কিন্তু আসলে সেটা মহাদেবের কাছে দেবীর অকুন্ঠ সমর্পণের মতো। রাজকুমার শ্রদ্ধার আসনটা জিইয়ে রাখিতে চাইলেও মাধবী সেই আসনে ভালোবাসার পুষ্পমালা বিছিয়ে দিতে চায়।

    কালীর ব্যাপারটা আবার অন্যরকম। সে নেহায়তই উন্মার্গিক, আপাতদৃষ্টিতে অপরিপক্ব। কিন্তু সেই বোধ হয় রাজকুমারকে সবচেয়ে ভালোভাবে পড়তে পারে। রাজকুমারের প্রত্যাখানে সে আহত হয়, কিন্তু নিজেকে বাকিদের মতো বিকিয়ে দিতে যায় না।

    রাজকুমার চরিত্রটা সম্ভবত মানিকের সবচেয়ে জটিলগুলোর একটি। শুধু মানিক কেন, বাংলাসাহিত্যেই আর কোনো লেখক এরকম প্রহেলিকাময় কোনো চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন কি না সেই প্রশ্ন রেখে যাওয়া যায়। সে একই সাথে যৌনতাড়িত, আবার কখনও কখনও একেবারেই শরীরবিমুখ। সে সব সময় যুক্তির কষ্টিপাথরে সব কিছু যাচাই করে নিতে চায়, আবার রিণির পরিণতির জন্য খানিকটা অযৌক্তিকভাবেই নিজেকে কাঠগড়ায় তুলতে দ্বিধা করে না। তার মানে কি তাঁর যুক্তিবাদী মনের আড়ালে একটা আবেগী স্বত্বা আছে ? কিন্তু সেটাই বা জোর দিয়ে কীভাবে বলা যায়?

    নাহ, চতুষ্কোণ আসলে কাকচক্ষু জলের গভীর দীঘির মতো, যার তলের কোনো থই পাওয়া যায় না। এমন একটা বই, যেটা পড়ার পর ভালো বা মন্দ লাগার অনুভূতিটাও ঠিক বোঝানো যায় না। শুধু মনে হয়, কোথাও যেন একটা তারে টোকা পড়েছে, আর কানের কাছে সেটা অবিরাম ঝংকার তুলে যাচ্ছে, যাচ্ছে তো যাচ্ছেই...


  3. Israt Zaman Disha Israt Zaman Disha says:

    আমার ছোট মাথায় ঠিক ধরতেসে না। কেউ কোনদিন বুঝায় দিলে বা নিজের বুদ্ধি একটু খুললে তখন হয়ত বলতে পারবো কেমন লাগলো।


  4. Farzana Raisa Farzana Raisa says:

    ম্যালা বই পড়া হইসে ঠিক, কিন্তু বোদ্ধা বা জ্ঞানী বোধহয় আর এই জীবনে হওয়া হলো না। দুঃখিত মানিক বাবু, আমি নিতান্তই মুখ্যসুখ্য মানুষ এতো জটিল প্যাঁচপুচ, মানুষের বিচিত্র সাইকোলজি আর কার্যকলাপ বুঝা আমার কম্মো না।
    দিন শেষে নিজের জন্য এক রাশ হতাশ আর করুণা :/

    বি.দ্র. রেটিং দিব কি? বুঝি নাই তো কিছু। 💔


  5. Arup Arup says:

    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যেকোন লেখাতেই 'মন' একটা অলিখিত চালিকাশক্তি।মানুষের মন যে পথে চলে, সে যে সবসময়ই পায়ে চলা পথ নয় সেটাই যেন লেখক নিবিড়ভাবে উন্মোচন করেন। একজন যুবক যে হয়তো শিক্ষিত এবং তার পারিপার্শ্বিক পৃথিবীতে একা,তার সঙ্গচেতনা যেভাবে আবর্তিত হয় কিছু নারীকে ঘিরে তারই আলেখ্য চতুষ্কোণ। কিন্তু সেও কোন সহজ অনুভূতি নয়,অন্তত একটি মুহূর্তকে বর্ণনা করতে লেখক কথার পর কথায় যেভাবে খুলে যান মনের অজস্র কপাট,তা আধুনিক মানুষের অন্তর্যাতনাকেই আরো তীব্র করে তোলে।

    রাজকুমার শিক্ষিত তরুণ,তার জ্ঞানের উদ্ভাসে এবং পরিচয়ের সুবাদে কিছু নারীর(মেয়ে বলাই সমীচীন?)সাথে তার জীবন সম্পর্কিত।কেউ হয়ত শিক্ষিতা কেউ নয়,এরকম চারজনকে দিয়েই মানিক দৃশ্যামান করেন রাজকুমারকে। যৌনতা বলতে একালের লেখকেরা যেভাবে লেখেন অন্তত খুব স্থূলভাবে,মানিক তার ব্যবহার করেননি,তার যৌনতাও মানুষের অন্তর্লোক খুঁড়ে দেখবার প্রয়াস,যেভাবে রাজকুমার বুঝতে চায় মেয়েমানুষের গড়নের সাথে তার স্বভাবের কী জটিল রহস্য। এবং সেই কথা যখন একজন নারীকে জানায়,জোটে তিরস্কার। অথচ সে লোভী নয়,শুধুই একটি শরীরের বাসনা সে বোধ করে না। কিন্তু সেই বোধও ধাক্কা খেয়ে যায়,যখন হোটেলের দরজায় দাঁড়ায়,যেন ভেতরের জৈবিক প্রবৃত্তি তার অনাসক্ত মনের আবরণ কে ঘুচিয়ে দিতে চায়। এরপরও এই উপন্যাস যৌনতাসর্বস্ব নয়, যেন স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকেই কেন মানুষ অর্গলে আবদ্ধ রাখে তাই বোঝবার প্রয়াস,জীবনের সন্ধান। তবে সে প্রচেষ্টাও রাজকুমারকে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত করা থেকে এড়াতে পারে না। আধুনিক মানুষের মত সেও বোধ করে নিজেকে খুঁজে দেখার এ যাত্রা নিঃসঙ্গ,অনিঃশেষ। এ যেন সেই,
    'সকল লোকের মাঝে ব’সে
    আমার নিজের মুদ্রাদোষে
    আমি একা হতেছি আলাদা'

    যে তুমুল বিপন্নতা কে এড়ানো যায় না কিছুতেই।


  6. Swajon Swajon says:

    শব্দের মানে তারাই ঠিক করে, যে বলে আর যে শোনে। কাজ ও উদ্দেশ্যের বেলাতেও তাই! কি ব্যাপক মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা!

    রাস্তায় নেমে গেলেই দেখবে সব ঠিক হয়ে গেছ।

    রাগ নাই, অভিমান নাই। একটি মানুষের উপরেও নয়। জড়বস্তুকেও মানুষ কখনো কখনো হিংসা করে, হোঁচট লাগিলে অন্ধ ক্রোধে ইটের উপর পদাঘাত করে, কারাগারের লোহার শিক ভাঙ্গিয়া ফেলিতে চায়। কিন্তু মানুষ নিষ্ক্রিয় নির্জীব পুতুল হইলে একটি পুতুলের মুখ তার পছন্দমত নয় বলিয়া যতটুকু বিরক্তি বোধ করা উচিত, তাও সে বোধ করে না। মানুষের মনের অন্ধকার ও দেহের শ্রীহীনতার অপরাধ সে ক্ষমা করিয়াছে। মানুষ যে কৃপণ, তাতে তার কিছুই আসিয়া যায় না, কারণ, মানুষের কাছে সে কিছু চায় না।
    এই নির্বিকার ঔদার্য যেন জীবনের সেরা সম্পদ, কুড়াইয়া পাইয়াছে। দূর হইতে দিনের পর দিন শুধু চাহিয়া দেখিতে দেখিতে হঠাৎ একদিন ধনীর দুলালের খেলনাটি বস্তিবাসী শিশুর হাতে আসিলে সে যেমন আনন্দে পাগল হইয়া ভাবে, জীবনে তার পাওয়ার আর কিছুই বাকি নাই, আর্ষ শান্তি আহরণের সৌভাগ্যে বিপরীত আনন্দের উন্মাদনায় রাজকুমারেরও তেমনি মনে হইতে থাকে, এবার সে তৃপ্তি পাইয়াছে, সম্মুখে তার পরিতৃপ্ত জীবন।


  7. Fahmida Altaf Fahmida Altaf says:

    অন্য ধাঁচের উপন্যাস। মনের যতসব দোলাচল, যতসব ধাঁধা- ক্যানভাসে ছবির মত উঠে এসেছে। মনে হবে ভালো লাগছে না, কিন্তু একটু পরে পরেই মনে হবে একবার অসাধারণ, আবার একটু পরে মনে হবে ভালো লাগছে না। কারণ আমার মতে এটাই, সকলের সব ভালোমন্দ চিন্তা জানা গেলে তাকে আর ঠিক পারফেক্ট ভালো মনে হয় না।

    সরসী মেয়েটি বেশ। বোল্ড ক্যারেকটার।

    শেষপর্যন্ত এসে সমাপ্তিটি অসম্পূর্ণ। পাঠকের আরো জানার অপূর্ণতা রয়ে যায় কিন্তু নিজের মত করে ভেবে নেয়ার খোরাক থাকে না।


  8. Shahriar Kabir Shahriar Kabir says:

    কারো প্রতি দাবি করে নাই বলেই কি ভালবাসার ইচ্ছা রাজকুমারের জন্য পরাক্রমে বেঁচেছিল?
    চার-পাঁচ নারীর সকলেই জানে তারা রাজকুমারের নৈকট্য কামনা করে। রাজকুমারেরও কিছুটি অবিদিত নয়। নারীর প্রতি কামনা রাজকুমারের দর্শনের মাঝ দিয়ে ধরা দেয়! সবার জন্য প্রেম অনুভব করা কার জন্যই পাগল না হওয়ার মত দশা।
    যার দশেক প্রেমিকা থাকে তার জন্যই বুঝিবা দশের বাইরের মেয়েটাও দেহ মন দেবার বাসনা লালন করে?
    শ্যামলের প্রেমের বৃক্ষ এক মালীর জন্য জন্মে, এক মালীর অভাবেই শ্যামলকে অস্ফূট রেখে দিল।
    যা প্রেম তা ধ্বংসে বিরাজ। যা বিরাজমান প্রেম তার পরিণতি অপরিণয়ে।
    যার লাগি যার পোড়ে তার কাছে কেউ বাধা পড়ে থাকল না!
    যার কাছে যে বাধা পড়ে থাকতে চায়, তার কাছে সেই পোড়ানিটুকু তো নাই!
    প্রেম কি একের পর এক অসমাপ্ত সম্পর্ক জন্ম দিতে থাকে যার সমাপ্তি শুধু বাহ্যিক?

    প্রধান চরিত্র রাজকুমার ওরফে রাজু-ময় উপন্যাস। উপন্যাসের হিরো, উপন্যাসে ঘটা পরিস্থিতির ভিলেন হয়েও হিরো! সমাজে যে বড় তার দোষটি বড় ছোট, বা কখনো দোষও নয়, দর্শনীয় দর্শন।


  9. Naima Ferdous Naima Ferdous says:

    মানিক বাবু বরাবরই জানেন কেমন করে পাঠককে আচ্ছন্ন করে রাখতে হয়। একদমই ভিন্ন ধাঁচের কাহিনিতব্য চতুষ্কোণ।

    শব্দের মানে তারাই ঠিক করে যে বলে আর যে শোনে।রাজকুমার চরিত্রটির এমন মনস্তাত্ত্বিক পরিণতি সাধারণ ভাবে ন্যাকামো বা ভারি অদ্ভুত ঠেকতে পারে। ভিন্নভাবে নারী প্রকৃতির বিশ্লেষণে পৌছুতে চেয়েছিলেন রাজকুমার। খুব বেশি ভালো লেগেছে কিনা বুঝতে পারছি না। তবে মন্দ লাগেনি অবশ্যই বলা যায়। কোথাও যেন অতি সুক্ষ্ম ভাবে সুক্ষ্ম কোনো চিন্তা বিঁধে আছে।


  10. Rubel Rana Rubel Rana says:

    মানিকের সাথে আমার ব্যক্তিগত দুইটা সমস্যা আছে, একটা ''সমস্যা'' পুরোটাই সমস্যা, আরেকটি সমস্যা ভালবাসার। ভালবাসার বলতে, খুব ছোটবেলায় কেউ আমার হাতে মানিক ধরিয়ে দিয়েছিলো। সেই থেকে মানিকই আমার কাছে এই ধরনীর বুকে হেটে বেড়ানো সেরা লেখক। এখনো আমি ধরেই নিই, অন্য কোন ভালো লেখক তার চেয়ে হয়তো ছোট নয় কিন্তু সে বড়। কথাটা কেমন যেনো একপ্রকার মিনিংলেস টটোলজির মতো শোনালেও, এই'ই সত্য। আর সমস্যাটা হলো, আমি ছোটোবেলায় তার লেখার গভীরতা বুঝতে পারিনি। মন নিয়ে তার যে খেলা, মনের যে ব্যবচ্ছেদ তার মর্ম আর স্কুল পড়ুয়া বালক কী বুঝবে! এই যে পুতুল নাচের ইতিকথায় সারা বই জুড়ে প্রেম ছিলো, অথচ সেই প্রেম কমিক পড়ার বয়সে চোখে পড়েনি আমার। কারন বইয়ের পাতায় পাতায় প্রেম আর জীবনেরা হৈ-হোল্লোড় করে গোল্লাছোট খেলেনি, তারা নিঃশব্দে দাবা খেলেছে। সেই প্রেম আর জীবন আমাকে কাপিয়ে দিয়ে গেলো এবার দ্বিতীয়বার বইটি পড়ার পর। একারনেই আবার মানিক রিভিশন চলছে। কোনকিছু না বুঝেই যে মানিকের লেখার প্রেমে পড়েছিলাম, বোধশক্তি হওয়ার পর সেই প্রেমকে অমূল্যই মনে হচ্ছে। চতুষ্কোন মানিকের সেরা কাজ নয় কিন্তু মানিকের কাজ, সে আমার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ভক্তি পাবেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *